|
একটা চিজ
নাতো কি! শালার এ'মালটাকে পয়দা করে
সৃষ্ঠিকর্তা আমাদের যা দেখালেন তা'র শুকরিয়া
আদায় করার মত নয়। এ চিজের সাথে যারা পরিচিত
হয়েছে তাদের জীবন ধন্য। বিধাতার কাছে তাদের
আর কোন ফরিয়াদ নেই। রোজ কিয়ামতে তাদেরকে আর
বলতে হবে না - প্রভু তুমিতো তোমার বাণীতে
"মোনাফেক" "ফাসেক" "শয়তান" "ইবলিশ" ইত্যাদি
ইত্যাদি বলেছো কিন্তু বাস্তবে এদের কোনটাকেইতো
দেখতে পেলামনা। নিরাকার েয কি ভাবে আকার করে
আমাদের নছিবে মতলব চাচার মত একটা চিজকে পয়দা করলেন
তার কৃতজ্ঞতার ভাষা আমাদের নেই।
মতলব চাচার আদি অন্ত নিয়ে আমার চিন্তাভাবনার দরকার নেই।কারন এতে গন্ডগোল আর গোলপাক খেয়ে আসল মালটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। তার চেয়ে বরং "মতলব চাচার" খাটিত্বটার িকচুটা প্রশংসা নিবেদন করে সন্তুষ্ঠ থাকি।
আমি এবার আমার কাছের মানুষটাকে েডকে বল্লাম - "নয়ন মিয়া
(আমার কাছের মানুষটির নাম) সেদিন কি একটা মাল দিলে হজম করতে পারলাম না বমি হয়ে গেল। আজ দেখ কি নিয়ে এসেছি! ফেইল, তোমার সব মাল এটার কাছে ফেইল। যাও নিয়ে যাও তোমার ঐ পচা মালগুলোকে চুংগায় ভরে রাখ।
নযনমিয়া বল্ল - সেটা আবার কোনটা?
আমি বল্লাম
- এই যে "মতলব চাচা"
নয়ন মিয়া তার নয়নে চশমাটাকে ভাল করে এটে মালটাকে পরখ করলো। প্রথমে কিছুটা দ্বিধান্নিত হল। কপালে দেখা গেল চিন্তার রেখা।
আমি জিজ্ঞাসা
করলাম - কি নয়ন মিয়া, এত দ্বিধান্বত হয়ে গেলে েয।
মালটার ব্যাপারে তোমার কি কোন কিছু বলার আছে?
নয়ন মিয়া
ইতস্ততঃ করে বল্ল - "না কি আর বলবো, মালটা বড়
খতরা। আমাদের অন্তর আলীকে এব্যাপারে একটু জিজ্ঞাসা
করলে কেমন হয়?
আমি বল্লাম
- খুব ভাল কথা, জিজ্ঞাসা কর। তবে নয়ন মিয়া
মনে রেখ আমার আজকের এ মালটার জয়জয়কার ঘরে বাইরে। কুলি, মালী জাত বেজাত সকলেই "মতলব চাচার" মতলবি সেবায় দায় গ্রস্থ। কোন মতেই এ চিজটাকে ছাড়া যায় না। আমি গাট্রিপছা কোন মালের
ইস্তেমাল করতে চাইনা?
নয়ন মিয়া আর কথা বাড়ালো না। সে তার পাশের বাড়ির "অন্তর আলীর মতামত নিতে গেল। অন্তর আলী লাফ
মেরে বল্ল - আরে তুমি দেখি আজ আমার অন্তরের কথা
বলছো। আমি এই মালটা নিয়েইতো
ভাবছি।
আমার অনেকদিনের আশা মতলব চাচার একটা গুণকীর্তণ
করি। সুযোগ পাইনা বলে কতযে আফসোস করি।
না তুমি যখন
বলেছো তখন আর অপেক্ষা নয়, সুযোগটা
হাতছাড়া হয়ে যাবে। এমন সুযাগ হাত ছাড়া করা
উচিত্ নয়। কখন জানি মালটা বাজার ছাড়া হয়ে
যায়। তখন মনের কবর খুড়ে গায়েবানা জানাজা
পড়েও কিছু করার থাকবেনা।
অন্তর আলীর কথাবার্তায় মনে হলো
সে কথিত খঁাটি মালটার
খুব বড় সমজদার। নাহ, কথায় কথায় অন্তর আলী এমন
প্রশংসা করলো যে আমি এবং নয়ন মিয়া এই মালটার
সুনামটায় মুগ্ধ হয়ে তার প্রচারের দায়ীত্বটা
আপনিতেই কাধে নিলাম। মতলব চাচার মত মালটার
গুণাগুণ আর বাহাদুরীর কাহিনী নয়ন মিয়া তার পাওয়ার
ওয়ালা চশমাটা দিয়ে দেখতে লাগলো। তার বাস্তব
গুণগুলোর বেশ কিছু প্রশংসা ব্যবহার কারীদের কাছ
থেকে সংকলিত হয়েছে কিন্ত আমার অন্তর আজ বিষয়টার
মুল্যায়নে নিল অবাধ স্বাধীনতা।
তার
নিরপেক্ষতা দেখে আমিও দিলাম না বাধা। কারন
অন্তর আলী আমার উপর এমনিতেই ক্ষেপা।
আমি নাকি তার
আন্তরিকতার কোন দাম দেই না। সব সময় তা'কে অবহেলা
করি। আসলে কথাটা অঠিক নয়। অন্তর আলীর
সাথে দু'দন্ড কথা বলার সুযোগ আমার বড় বেশী হয় না।
অথচ এই অন্তর আলী পৃথিবীর কত আকাম কুকামের নীরব
সাক্ষী। আর কিছু না হোক জীবন জ্ঞানের
ভাড়ারটাকে অন্তর আলী বেশ পরিপুর্ণ করে রেখেছে।
তার সাথে একটুখানি সঙ
দিলে কত কত মজার গালগল্প শুণা
যেতে পারে।
আমি আমার নয়ন
মিয়াকে নিয়ে অন্তর আলীর বাসনাটা পূর্ণ করতে আজ
একশত পার্সেন্ট মনযোগ দিলাম। সময়টাকেও ধার
করে নিয়ে এলাম যা'তে তড়িঘড়ি করে উঠতে হয় না।
একটা অতি নিরব যায়গাও পাওয়া গেল "নতুন দিনের" এক
কোনে। অন্তর মিয়া মুছকি হাসি হেসে আমাকে যে
মেসেজ দিল তা'তে বুঝা গেল আমি এতদিনে যায়গায় এসেছি। এতদিন পর আমার সম্ভ্রম হয়েছে। নয়ন মিয়া এবার
গতি বেগতিটা খুব ভাল ভাবে পরখ করে অতি সাবধানে
আমাদের নিয়ে বসলো।
অন্তর আলী
একটু থেমে আমার এবং নয়ন মিয়ার দিকে চেয়ে বেশ আনন্দ
উপভোগ করলো। বুঝলাম তার অনেকদিনের আশাটা
এবার পূর্ণ হচ্ছে বলে সে খুশী।
আস্তে
আস্তে অন্তর আলী শুরু করলো "মতলব চাচার"
গুণকীর্তন। বল্ল - মতলব চাচার প্রথম গুণটাই
হচ্ছে "নিজের মতবল"। কয়েকবার মউতের ফেরেস্তা
পর্যন্ত নাকি তার মতলবি দেখে মুখ
ফিরিয়ে
নিয়েছেন।
চাচার মেজাজটার কাছে নাকি চৌদ্দটা কুকুরও হার মানে।
মুখের তুজুরবাতে পরজনদের গীবতের এত বালাই
যে, চাচার
বাজারের বার মাইল দুর থেকেও শযতান-ইবলিশ ভয় পেয়ে
দেয় ছুট। কে নাকি শযতানকে চাচার কথাটা
জিজ্ঞাসা করেছিল। নাম শোনেই ভীত সন্ত্রস্থ
হয়ে সে বল্ল - ওমা তুমি যার কথা বলছো সে আমাদের
জাত ভাই "খবিছের" চেয়ে আরো বড় "খবিছ"। ও
যে'দিকে যায় আমরা সেদিকে মুখটা পর্যন্ত তাক করে
দাড়াতে পারিনা। ওর ইবলিশী দেখলে আমাদেরও ভয়
হয়। দেখনা আমাদের জাতভাই না হয়েও কি করে সে
আমাদের খেলাফতিটা নিয়ে নিয়েছে।
আমি
বল্লাম - অন্তর আলী তুমি এ সব কি বলছো, আমিতো মতবল
চাচার এ'গুলোর কথা কখনো চিন্তা করিনি?
অন্তর আলী বল্ল - এ জন্যইতো তোমার প্রতি আমার ক্ষেদ।
তুমি একটু সময় দিলে আমি তোমাকে আরো কত কিছু শুনাতে
পারতাম। তোমার নয়ন মিয়াকে মাঝে মাঝে চোখে
আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেই। সে হরদম মতবল চাচার
কিলিবিলিটা দেখছে তারপরও না দেখার ভান করে
দেয় গা ঢাকা।
অন্তর আলীর
অন্তরের কথা আমার মন মগজে বার বার ধ্বণীত
প্রতিধ্বণীত হচ্ছে। আমি
যখন পেটের ধান্ধায় ছুটে চলছি
নিজের বাচ্চাদের খাবারের সন্ধানে তখন আমার নয়ন
মিয়া দেখছে মতলব চাচার ইবলিশীর খেলাফতি।
দেখছে মোনাফিকির তেজারতিতে হাবুডুবু খাওয়া নিরীহ
মানুষগুলোর জলজ্যন্ত মুখ।
|